Breaking News

লকডাউনে বন্ধ রোজগার! ভিক্ষার বদলে রোজগারের বিকল্প পথ বাছলেন বৃদ্ধ পুতুল বিক্রেতা

চন্দননগরের বাসস্ট্যান্ডে যদি আপনারা মাঝেমধ্যে যান বা আপনারা যদি চন্দননগরের বাসিন্দা হন তাহলে আপনাদের জন্য এই ব্যক্তিটি অত্যন্ত একজন পরিচিত মানুষ। আপনারা বেশ কয়েকবার এনাকে হয়তো বাসস্ট্যান্ডে দেখেছেন পুতুল বিক্রি করতে। তবে কোনো রকম সাধারন পুতুল নয় বরং তিনি নিজের হাতে তৈরি করা তুলোর সফট টয় বিক্রি করেন।

চন্দননগরের বাসস্ট্যান্ডের ধারে ফুটপাতে পাকা চুল কালো চশমা পড়ে বসে থাকা এই অশীতিপর বৃদ্ধ প্রতিদিন নিরলসভাবে তার জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের বিবেকের কাছে হার না মেনে তিনি এখনো তার পুরনো ব্যবসা আঁকড়ে পড়ে আছেন। একটাই আশা, হয়তো কোনদিন কেউ তার কাছ থেকে একটা পুতুল কিনবেন।

আপনারা মেলায়, ছাড়া বিভিন্ন ভ্যারাইটি স্টোরে মাঝেমধ্যেই দেখেছেন বিভিন্ন সফট টয় থরে থরে সাজানো রয়েছে। এই সুন্দর সুন্দর পুতুল যারা তৈরি করেন তাদের জীবন সংগ্রামের কাহিনী হয়তো অনেকেই জানেন না। এই প্রত্যেকটি পুতুলের পিছনে রয়েছে সেই ব্যক্তিটির হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম এবং  তাদের অদম্য জেদ যা তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেয় না।

সেই শিরদাঁড়া বিক্রি না করে নিজের জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া মানুষদের একটি উদাহরণ ওই চন্দননগরের বাসস্ট্যান্ডে পুতুল নিয়ে বসে থাকে ওই ব্যক্তিটি। ফুটপাথের উপরে নিজের ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে তিনি বসে পড়েন প্রত্যেক দিন বিকেলে। সাদা হলুদ পুতুল হাঁসের সোমবার তার সামনে সাজানো। একটাই আশা, পথচলতি মানুষের যদি কখনো ইচ্ছা হয়, একটা আধটা যদি তা থেকে কিনে নেয়। তাহলে সেদিন কিছু বিক্রি হবে।

অভাবের চোটে দুবেলা-দুমুঠো খাবার জোটে না ঐ বৃদ্ধ। কিন্তু তবুও আত্মসম্মান তাকে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিতে দেয়নি। যতই কষ্ট হোক না কেন সারাদিন পথচলতি যাত্রীদের দিকে চেয়ে থাকেন ঐ ব্যক্তি। তার একটাই আশা যদি কেউ দয়া করে তার থেকে একটি পুতুল হাস ক্রয় করে। ওই ব্যক্তির নাম হরিপদ দাস এবং তার বাড়ি মানকুন্ডুতে। প্রত্যেকদিন মানকুন্ডু থেকে চন্দননগর বাসস্ট্যান্ডে তিনি তার পুতুল বিক্রি করতে আসেন। ওই পুতুল বিক্রি করেই তার সংসার চলে।

কিন্তু লকডাউন তার ব্যবসার ক্ষতি ডেকে এনেছে। সেরকম যাত্রী আর আসছে না এই স্ট্যান্ডে। বাসের চলাচল কার্যত বন্ধ। তাই এখন কার্যত ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম। সংসারে তাই একটা পয়সা দিতে পারছেন না ঐ ব্যক্তিটি। এরকম পরিস্থিতিতে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে নতুন প্রজন্মের বেশ কিছু ছেলেমেয়ে।

তারা উদ্যোগ নিয়ে নিজেরাই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে এই বৃদ্ধের ছবি আপলোড করেছেন। তার পাশাপাশি তারা একটি ফোন নম্বর দিয়েছেন যে কোন নম্বরে ফোন করে আপনারা ওই বৃদ্ধের কাছ থেকে তার বিভিন্ন হাঁসের পুতুল কিনতে পারেন। প্রত্যেক পুতুলের দাম মাত্র কুড়ি টাকা এবং নিম্নলিখিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে আপনারা এই পুতুল কিনে নিতে পারবেন নম্বরটি হলো  – 8981813928।

 

বৃদ্ধ মানুষটির ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তারা বারংবার সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করছেন যাতে কোন মানুষ তার কাছ থেকে একটি পুতুল কেনেন। তাদের আরজি বাড়িতে যদি কোন ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তাদের হাতে যেন আগেই ফোন না তুলে দিয়ে দাদুর তৈরি এই ছোট্ট পুতুল তুলে দেওয়া হোক। তাহলে হয়তো আপনার ভাড়ার খুব একটা খালি হবে না কিন্তু এই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি কিছু আয় করতে পারবেন।

Check Also

ঘরের মধ্যে নিজের বউয়ের সাথে লুকিয়ে প্রেম! শশুরের কাছে ধরা পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেল সৌজন্য গুনগুন

আজ আমরা যা আলোচনা করব তিনি হচ্ছেন একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা ব্লকবাস্টার ধারাবাহিকের নায়িকা। হ্যাঁ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *