দেখে মনে হতো সাধারন গ্রামীন মহিলা, খোঁজ নিতেই জানা যায় IAS অফিসার

0
6

বিজ্ঞানী ভিনটন জি কার্ফকে ইন্টারনেটের জনক বা আবিষ্কারক বলা হয়। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর এটির সবথেকে যুগান্তকারী অবদান হল সোশ্যাল মিডিয়া। এই আধুনিক যুগে ঘরে বসে বিনোদনের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ার আরো দুটি নাম আছে যথা নেট দুনিয়া এবং নেট মাধ্যম। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই সিনেমা থেকে শুরু করে খেলাধুলা নিমিষেই উপভোগ করতে পারি।

এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা বন্যা, ভারী বৃষ্টিপাত সম্পর্কিত তথ্য নিমিষেই জেনে যেতে পারি। এছাড়া এই নেট দুনিয়া আছে বলেই কোনো প্রতিভা একেবারে শুরুতেই শেষ হয়ে যায় না। প্রতিভাবান ব্যক্তিরা এই নেট দুনিয়াতে নিজেদের প্রতিভার ভিডিও আপলোড করেন এবং সেই ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হলে ওই প্রতিভাবান ব্যক্তি রাতারাতি স্টার হয়ে যান।

এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই আমরা রানু মণ্ডল, চাঁদমনি হেমব্রম ও বিপাশা দাসের মত প্রতিভাদের আমাদের মাঝে পেয়েছি। এক কথায় বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান আমাদের জীবনে অনস্বীকার্য। চলুন তাহলে আজকের আলোচনা শুরু করা যাক। আজ এক সংগ্রামী নারীর কথা বলবো। অনেক মানুষ সাফল্য লাভের সাথে সাথে তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও তার সংঘর্ষের দিন গুলো ধীরে ধীরে ভুলতে থাকে।

এখন অনেক কম মানুষই দেখা যায় যারা সাফল্যের শীর্ষে থেকেও নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বাঁচে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা সব ভুলে সফলতা নিয়ে মত্ত থাকে ও সাফল্যের চাক চিক্কে বিলাসিতায় জীবন যাপন করে।
যদিও এখনও কিছু মানুষ আছে যারা সফলতাকে নিজের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়নি। এই রকমই একজন হলেন রাজস্থানের মনিকা যাদব।

ইনি হচ্ছেন রাজস্থানের শিকার জেলার শ্রীমাধোপুর পঞ্চায়েতের লিসাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং। ২০১৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তবে উচ্চস্তরের অফিসার হওয়া সত্বেও তিনি তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। তিনি তার প্রথম প্রচেষ্টায় ৪০২ রাঙ্ক নিয়ে সফল হন। তার পিতার নাম হরফুল সিং যাদব যিনি নিজেও একজন সিনিয়র আই আর এস।

আইএএস মনিকা যাদব তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং বর্তমানে তিরওয়া অঞ্চলের ডি এস পি পদে কাজ করছেন। তিনি আইএএস সুশীল যাদবকে বিয়ে করেছেন, যিনি বর্তমানে রাজস্থানে এসডি এম হিসেবে কর্মরত। আইএএস মনিকা যাদবের কিছু ছবি ব্যাপক পরিমাণে ভাইরাল হচ্ছে যেখানে তাকে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক তথা পরনে লাল শাড়ি, কপালে একটা টিপ ও তার নবজাত শিশুকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

মনিকা ২০২০ সালে মার্চ মাসে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। লক্ষণীয় এটাই মা হওয়ার পরও তিনি তার দায়িত্ব সুন্দর ভাবে পালন করেছেন। মনিকা কাজের ব্যাপারে খুব যত্নশীল। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে তা সমাধান করার অন্য রাজ্য তাকে অনেক আর সম্মানিত করেছে। সম্প্রতি মেয়ের সাথে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তার ছবি ভাইরাল হয়।

এর থেকে বোঝা যায় সফলতার শীর্ষে থেকে তারা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেননি। নেটিজেনরা তার ছবি খুবই পছন্দ করছে এবং তিনি অনেক প্রশংসিতও হচ্ছেন। আইএএস মনিকা যাদব বলেন যে তিনি একটা গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছেন। এই পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করে, আজ অফিসার হওয়ার পরও তিনি তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছেন। ইতিমধ্যেই মনিকার দিকে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here