উচ্চতা মাত্র ৩ফুট! সমাজের সব বাঁধা পেরিয়ে আজ IAS অফিসার সেই মেয়ে

0
117

এই আধুনিক যুগে বিনোদনের আরেক নাম সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমরা আরো দুই নামে চিনে থাকি তা হল নেট মাধ্যম এবং নেট দুনিয়া।

বর্তমানে সকল মানুষজনই জানেন যে এটি আমাদের জীবনে অনেকটা অংশ জুড়ে বিস্তার করে। এই নেট মাধ্যমের সাহায্যে আমরা খেলাধুলা থেকে শুরু করে সিনেমা নিমিষেই দেখতে পারি।

এছাড়া বিভিন্ন জরুরি খবরাখবর নিমিষেই আমাদের জানতে সাহায্য করে এই সোশ্যাল মিডিয়া। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আমরা নিমিষেই এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে যেতে পারি।

অপরদিকে এই নেট মাধ্যমের সাহায্যেই রানু মন্ডল, চাঁদমনি হেমব্রমের মতো বিশিষ্ট সঙ্গীতশল্পীদের আমাদের মাঝে পেয়েছি। এক কথায় বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান আমাদের জীবনে অনস্বীকার্য।

চলুন তাহলে আজকের আলোচনা শুরু করা যাক। আজ আমরা এক ভাইরাল টপিক নিয়ে কথা বলবো। আজ আমরা এক সংগ্রামী নারীর কথা জানবো।

যিনি শারীরিক দিক থেকে দিব্যাঙ্গ হওয়ার কারণে সমাজের বঞ্চনার শিকার হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর একটি কাজ সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে।

আজ তিনি রাজস্থানের আজমেরে জেলা আধিকারিক পদে নিযুক্ত। ওনার নাম আরতি ডোগরা । আর উনি মাত্র তিনফুটের। উচ্চতায় তিনি খাটো হলেও অনেক লম্বা মানুষদের হারিয়ে দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন এই মহিলা। আজ তিনি সারা বিশ্বের কাছে একজন ইনস্পিরেশন। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন আপনাদের মেয়ের স্বাভাবিক উচ্চতা হবে না।
শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণ খুব কম। জানিয়েছেন আরতির বাবা মা। আরতির উচ্চতা কম হলেও, আজ তিনি গোটা দেশের মহিলা এবং মহিলা আই. এ.এস আধিকারিকদের রোল মডেল হয়ে উঠেছেন।আরতি ডোগরাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও খুব পছন্দ করেন। আরতি উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। ওনার জন্ম উত্তরা খণ্ডের দেরাদুনে হয়েছিল। আরতি ২০০৬ সালে আই. এ.এস অফিসার হয়েছিলেন।
ওনার উচ্চতা মাত্র তিন ফুট ছয় ইঞ্চি। আর এই কারণে ছোট বেলায় উনি অনেক বৈষম্যের শিকার হন। গোটা সমাজ আরতিকে বৈষম্যের চোখে দেখত, কিন্তু তাঁর বাবা-মা সবার উপরে নিজের সন্তানকে খুবই ভালবাসত আর তাঁকে ভালো শিক্ষা দিয়ে এতটাই স্বাবলম্বী বানিয়েছে যে, আজ গোটা সমাজ তাঁকে ভালোবাসার চোখে দেখে এবং তাঁকে সন্মান দেয়।

আরতি নিজের কার্যকালে অনেক বড় বড় কাজ করেছেন। আর তিনি কোন মানুষকেই অছ্যুত হিসেবে দেখেননি। ওনার কাছে সবাই সমান। উনি যেই বঞ্চনা ছোট বেলায় সহ্য করেছেন, সেই বঞ্চনার শিকার কাউকে হতে দেবেন না বলেন পণ করেছেন। জানিয়ে দিই, আরতির বাবার রাজেন্দ্র ডোগরা সেনার একজন অফিসার। আর মা কুমকুম ডোগরা একজন স্কুল শিক্ষিকা। আরতির জন্মের সময়েই ডাক্তাররা বলে দিয়েছিলেন যে, সে বাচ্চাদের সাথে সাধারণত ভাবে স্কুলে পড়াশুনা করতে পারবে না।

আর এরপর যখন আরতি ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল, তখন সমাজ তাঁর প্রতি বঞ্চনা শুরু করে দিলো। সবার সাথে লড়াই করে আরতির বাবা-মা তাঁকে বাকি বাচ্চাদের সাথেই স্কুলে পড়াশোনার জন্য ভর্তি করেন। অনেক আপত্তি স্বত্বেও ওনারা আরতির পড়াশোনা নিয়ে কম্প্রোমাইজ করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাঁদের একটাই কথা ছিল, আর সেটা হল আমাদের এই সন্তানই আমাদের সব স্বপ্ন পূরণ করবে।
আরতি দেরাদুনের বেলহাম গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করে। এরপর দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে ইকোনমিক্সে গ্রাজুয়েশন করেন। এরপর ইউ.পি.এস.সি ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন তিনি। এখন আরতি দেশের অনেক যুবতীরই রোল মডেল। ইতিমধ্যেই আরতির দিকে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here